পশ্চিম পাকিস্তান আর সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য দেখি

ছোট মামির লাংস ক্যান্সার প্রসঙ্গে 

গেলেন আনোয়ার খান মডার্নে এক থোরাসিক সার্জনের কাছে

  1. উনি বললেন পপুলারে অমুক ক্যান্সার স্পেশালিস্টের কাছে যান
ক্যান্সার স্পেশালিষ্ট বললেন ভর্তি হন, তবে পপুলারে নয়, ভর্তি হবেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজডে।
ভর্তি হলেন, প্লুরাল ফ্লুইড স্টাডি হলো, ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি হলো।
১০ দিন পর রিপোর্ট আসবে – ডিসচার্জ নিলেন।
১০ দিন পর রিপোর্ট আসলো – ইনকনক্লুসিভ।
রিপোর্ট দেখানোর জন্য যাওয়া লাগলো ডেল্টা তে,
কারন সকালে উনাকে পপুলার নয়, ডেল্টাতে পাওয়া যায়, সন্ধ্যায় পপুলার।
ওকে গেলাম ডেল্টায়, বললেন – লাংস বায়পসি লাগবে।
তো করেন এখনি?
স্যার বললেন ডেল্টায় লাংস বায়পসি ভালো হয় না, অন্য কোথাও যান।
গ্রীণ লাইফে অমুক স্যারকে দিয়ে করাবো? উনি আমার পরিচিত। জিজ্ঞেস করলাম স্যারকে।
হ্যাঁ করান, উনি করালে তো বেস্ট হয়।
গ্রীণ লাইফে গেলাম।
ওই স্যার বললেন এটা টেকনিক্যালি ডিফিকাল্ট বায়পসি।
এটা সম্ভব না, ওপেন করতে হবে।
বিকল্প কী আছে?
বিকল্প হচ্ছে সব প্লুরাল ফ্লুইড বের করে সেন্ট্রিফিউজ করে তারপর সাইটোলোজি, সেল ব্লক করে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি আর মলিকুলার স্টাডি করা।
কারা করবে এইটা?
উনি বললেন বেস্ট হচ্ছে ইসলামি ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল।
ওকে, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে গেলাম।
ওখানে প্যাথোলোজিস্টের সাথে কথা বললাম, ওখানে নাকি সেন্ট্রিফিউজ মেশিনই জয় বাংলা।
আর ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি করে না তারা।
আচ্ছা গ্রীন লাইফে বায়পসি করলে, হিস্টোপ্যাথোলোজি কিন্তু তারা করতো না,
আবার হিস্টোপ্যাথোলোজির জন্য বাইরেই পাঠাতো।
আবার সেই থোরাসিক সার্জনের কাছে গেলাম।
উনি বললেন আনোয়ার খানে থোরাকোটোমির জন্য ভর্তি হয়ে ওপেন করে স্যাম্পল নিতে হবে।
এই স্যাম্পল আবার পাঠানো হবে দি ল্যাবরেটরিতে।
আচ্ছা এবার একটু দেখেন
একজন ক্যান্সারের রোগীকে তাঁর প্রপার ইভালুয়েশনের জন্য দেড় মাস ধরে আনোয়ার খান মডার্ন > পপুলার > বাংলাদেশ স্পেশালাইজড > ডেল্টা > গ্রীণ লাইফ > ইসলামী ব্যাংক > আনোয়ার খান ৫টা হাসপাতাল ঘুরতে হচ্ছে, বায়পসি হলে আবার সেটা পাঠাতে হতো দি ল্যাবরেটরি বা আনোয়ারাতে।
তার মানে কি বুঝলেন?
এটাই বুঝেছেন বাংলাদেশের ৯৯% কর্পোরেটস ই কোয়ালিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ না
অর্থাৎ এত্তগুলা কর্পোরেট হাসপাতাল চালাতে যেই পরিমাণ কম্পিটেন্ট ডাক্তার দরকার, সেই পরিমাণ দক্ষ ডাক্তার বাংলাদেশে নেই।
অথচ প্রতিদিন নতুন নতুন হাসপাতাল হচ্ছে, এগুলি কী চুলের সার্ভিসটা দিচ্ছে বুঝবার পারছেন?
প্রতিবছর ১০ হাজার ডাক্তার বের হচ্ছে
প্রতি বছর নতুন নতুন হাসপাতাল হচ্ছে।
ডাক্তাররাই নতুন নতুন হাসপাতাল দিচ্ছে।
অথচ আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে আমগো ডাক্তাররাই এমন সব হাসপাতাল বানাচ্ছে, যেখানে তারা নিজেরাই নিজেদের চিকিৎসা করতে পারবে না, বাপ মায়ের চিকিৎসা করতে পারবে না।
অথচ এই সব সলুশন ওয়ান স্টপ সার্ভিসাকারে এক সেন্টারে দেওয়ার মত হাসপাতাল ইন্ডিয়াতে অন্তত ১০০ হবে।
আসুন বিসিএস এর প্রস্তুতি নিই
তার আগে পশ্চিম পাকিস্তান আর সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য দেখি
পশ্চিম পাকিস্তান বছরে ১৬০০ লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে
পাকিস্তানের জনসংখ্যা মাত্র ২২ কোটি জনসংখ্যা,
১৫০ কোটি জনসংখ্যার ভারত করে মাত্র ২৪০০টা,
আমরা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেমনে করতে হয় বইতে পড়ি
৫৪ বছরে ৭টা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছে বৈষম্যহীন পূর্ব পাকিস্তান
ওরা যুদ্ধ করে, আমরা বিসিএস এর জন্য যুদ্ধ পড়ি
ওরা যুদ্ধ বিমান বানায় (পাকিস্তান চীনের যৌথ প্রযুক্তির যুদ্ধ বিমানের নাম জেএফ সেভেনটিন ৩৩টি দেশের কাছ থেকে এই বিমানের অর্ডার পাইসে ওরা) আমরা যুদ্ধ বিমানের নাম পড়ি বিসিএস এর জন্য
ওদের ২০ জনকে মারতে ৫টা যুদ্ধবিমান হারাতে হয় ভারতকে, ইতিহাসে প্রথমবারের মত রাফাল যুদ্ধবিমান জয় বাংলা হয়,
আর আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় কখনো মজু গুন্ডা, কখনো এরশাদ, কখনো হাসিনাদের মত পিউর দিল্লিদাসদের বসিয়ে হাজার হাজার ইন্ডিয়াবিরোধী মানুষ মেরে ফেলে ভারত।
সীমানার ওপার থেকে একটি গুলিও ছুড়তে হয় না।
ওদের সাথে ভারতের চির শত্রুতা, অথচ সীমান্তে পাকিস্তানী ভেড়ার গায়েও গুলি লাগে না,
আমাদের সাথে নাকি চির বন্ধুত্ব, স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক, অথচ আমাদের সীমান্তে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে।
ওদের নদীতে বাঁধ দেওয়ার খবরে যুদ্ধ ঘোষণা করে (সিন্ধু দিয়ে হয় পানি বইবে, নই বইবে ভারতীয়দের রক্ত)
আর আমাদের নদীর করুণ দশা।
শীতে শুকিয়ে, বর্ষায় ডুবিয়ে মারে আমাদের।

বলছিলাম বিসিএস এর ব্যাপারে

ভারতের ছেলেমেয়েরা যখন বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির সিইও হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, এবং হচ্ছে; (অনেক আগের লেখার ইনফো রিপোস্ট করা, সো অনেক পদে পরিবর্তন এসেছে, ইগনোর করুন)
Sundar Pichai, CEO of Google
Satya Nadella, CEO of Microsoft
Shantanu Narayen, CEO of Adobe
Francisco D’Souza, CEO of Cognizant
Rajeev Suri, CEO of Nokia
Sanjay Kumar Jha, CEO of Globalfoundries
Dinesh Paliwal, chairman and CEO of Harman International
George Kurien, CEO of NetApp
Indra Nooyi, chairperson and CEO of PepsiCo
Ajay Banga, president and CEO of MasterCard
Piyush Gupta, CEO of DBS Group
Ivan Manuel Menezes, CEO of Diageo
Rakesh Kapoor, CEO of Reckitt Benckise
তখন আমাদের সর্বোচ্চ মেধাবীরা ভাবছে কবে একজন বিসিএস ক্যাডার হয়ে জীবন ধন্য করবো! কবে একটি সরকারি ব্যাংকের এডি, ডিডি হবো?
স্বপ্ন দেখানোর আর স্বপ্ন দেখার মানুষের বড্ড অভাব দেশটাতে।
ফলাফল নিজের চোখেই দেখছেন।
আমাদের সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন ৫৪ হাজার কোটি টাকা।
আর এদেশে চাকুরী করা ৮-১০ লাখ বিদেশিদের আমরা বেতন দিচ্ছি প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা!
দেশের কয়েকশত প্রতিষ্ঠানের সিইও ভারতীয়!
আর আমরা সেখানে তাদের অধীনে দৌড়াদৌড়ি করছি।
সিনিয়র কয়েকজন বিদেশীদের সমান বেতন, তাদের দশগুণ বেশি সংখ্যক জুনিয়র এক্সিকিউটিভরা ও পান না।
ভারতীয়দের ১০০ সিইও সারা দুনিয়া থেকে যা আয় করে, আমরা লাখ লাখ শ্রমিক পাঠিয়েও সেই টাকা পাই না।
আমরা কবে দেশের এবং দেশের বাহিরের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইও তৈরি করবো?
কবে আমরা এদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিইও হয়ে বসে থাকা বিদেশির জায়গাটা নিজের করে নিতে পারবো?
কবে দেশের সব ধরণের টেকনিক্যাল কাজ বিদেশীদের সাহায্য ছাড়া নিজেরা করতে পারবো?
কবে আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস হাসপাতাল হবে?
কবে আমরা এমন হাসপাতাল বানাবো, যেখানে নিজের চিকিৎসা করাতে কনফিডেন্স পাবো?
গুন্ডাতন্ত্রের ষোল বছরে আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র ক্ষমাতায়নে, মেধাবীরা প্রত্যক্ষ করেছে, আমলা হলেই জীবন ধন্য
সাত খুন মাফ
বিশাল পাওয়ার
বাড়ি গাড়ি, নারী সব ফ্রি
এখন মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং আর বিশ্ববিদ্যালয়ের তামাম মেধাবীরা ছুটছে বিসিএস জব করতে।
দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের এখন একটাই স্বপ্ন – সিভিল সার্ভিস।
পড়াশোনা করেছে রসায়ন বিজ্ঞানে, বিসিএস এ কাজ করতেছে এসি ল্যান্ড হিসেবে।
পড়াশোনা করেছে পদার্থ বিজ্ঞানে, বিসিএস জব উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে।
গ্রাজুয়েশন – মেডিকেল সাইন্সে, বিসিএস জব সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে।
গ্রাজুয়েশন বুয়েট থেকে, বিসিএস জব ডেপুটি কমিশনার হিসেবে।
এমনিতেই দেশের শিক্ষাখাতের অবস্থা নাজুক। প্রশ্ন ফাঁস আর I am GPA 5 এর জোয়ারে শিক্ষার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সেখানে মেধাবীতম একটা অংশ যদি নন টেকনিক্যাল ফিল্ডে চলে যায়, টেকনিক্যাল ফিল্ড কে চালাবে?
দেশে গড়ে উঠা শিল্প কারখানা, আবাসন সেক্টর, স্থাপত্য নির্মাণ, চিকিৎসা, নগর ব্যবস্থাপনা এসব টেকনিক্যাল সেক্টর কাদের দিয়ে চলবে তাহলে?
অবশ্যই বিদেশীদের দিয়ে।
এই দেশের ফ্লাইওভার কি এই দেশের ইঞ্জিনিয়াররা বানাচ্ছে?
পদ্মা সেতু কি এই দেশের ইঞ্জিনিয়াররা বানাচ্ছে?
কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলি দেশীয় সিইও রা চালাচ্ছে?
শিক্ষার মানবনমনের সাথে সাথে বাড়ছে বিদেশীদের দৌরাত্ম্য।
সিনিয়র কয়েকজন বিদেশীদের সমান বেতন, তাদের দশগুণ বেশি সংখ্যক জুনিয়র এক্সিকিউটিভরা ও পান না।
.
আহা, কী ভয়ংকর একটা ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top