পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাভোগী অফিসারদের তালিকা – পর্ব ১
১) রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলমঃ
২২ মার্চ ২০০৯ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমোডর (অব:) মো: খুরশেদ আলমকে তিন বছর মেয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায়) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর চুক্তি বাড়ানো হয় এবং কিছুদিনের মধ্যেই সচিব পদমর্যাদায় মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান করা হয়। পাশাপাশি নিয়ম বহির্ভূত ভাবে তাকে ভূতপূর্ব রিয়ার এডমিরাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাঁর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি (এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির আদেশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে) এবং তাঁর কাজের অধিক্ষেত্র মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স। কিন্তু পূর্বাপর কূটনীতির কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে বিভিন্ন সময় কূটনীতির বিভিন্ন সংবেদনশীল কাজে যুক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তার উপর অগাধ আস্থা ছিল বলে জানা যায়। এছাড়া, আইন বিষয়ে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবেদনশীল বিভাগীয় মামলার তদন্ত ও রায় প্রদান তিনিই করে থাকেন।
খুরশেদ আলম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে RAW অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত। তিনি তার নৌবাহিনীর কর্মজীবনে ১৯৭৪ সালে ভারতীয় নেভাল একাডেমিতে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর, আলম ২০০৯ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটে চুক্তিভিত্তিক যোগদান করেন এবং তখন থেকেই হাসিনা ও র-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করে চলেছেন।
আপনি কি চুক্তি ভিত্তিক চাকরিতে কাউকে ১৫ বছর থাকতে শুনেছেন? কেন তিনি সেখানে? তিনি MOFA এর ভিতরে এমন একটি সেল পরিচালনা করেছেন যাতে কেউ হাসিনা ও ভারতের স্বার্থ বিরুদ্ধে কূটনীতির সাহস না পায়।
তিনি সর্বদা একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি হেগের PEACE PALACE e “বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধ” এবং “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমার সালিশ” এ আইনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। .
সত্য হল তিনি সর্বদা আমাদের প্রতিবেশীর পক্ষে নজরদারী করার জন্য সেখানে ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, হেগে আমাদের জয়ের পরও তার কারণেই বাংলাদেশকে সামুদ্রিক এলাকার ২৫ শতাংশ ছেড়ে দিতে হয়েছে।
তার পোস্ট ব্যবহার করে, সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান ওশান (IOCINDIO)-এর জন্য IOC আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারপার্সন হিসাবে তার ভূমিকার সময় তিনি আমাদের প্রতিবেশীর জন্যে একরকমের প্রক্সি খেলেছিলেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে মাসুদ বিন মোমেনের চুক্তি বাতিল করলে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলমকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কূটনীতির অভিজ্ঞতাহীন এই ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপন তথা সরকারি আদেশের সাথে সাংঘর্ষিক বিধায় এই নিয়োগই অবৈধ।
ছাত্র-আন্দোলনের সময়ে তিনি সদ্য বিদায়কৃত পররাষ্ট্র সচিবের সাথে থেকে দেশে-বিদেশে এই আন্দোলনের নামে অপপ্রচার করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন এবং স্বৈরাচার সরকারের গণহত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাসহ পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে এরকম মহল থেকে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংস্কার নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের নির্লিপ্ততা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জনাব খুরশীদ Political appointee হিসেবে আওয়ামী লীগের এজেন্ট ছাড়া আর কিছুই নন। তার চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করতে হবে যাতে সে দেশ ছেড়ে যেতে না পারে। মেরিটাইম কূটনীতির নামে তিনি এ পর্যন্ত যে সমস্ত তহবিল পরিচালনা করেছেন তার জন্য একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন।
তিনি কীভাবে আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশকে প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক ভূমি নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন যা নেদারল্যান্ডের স্থায়ী আদালতের আরবিটরেশন বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল তাও তদন্ত করা দরকার।
২. জনাব ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজীঃ
বিসিএস ২০ তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা এবং বর্তমানে যে বুলেট ট্রেনটি চালু আছে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে তাকে পদায়ন করা হয়েছে। মাসুদ বিন মোমেন তার প্রধান সহযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের পরই চলে যান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ফাইয়াজকে থাইল্যান্ডে পোস্ট করা হয়েছে।
আমাদের প্রধান উপদেষ্টা শীঘ্রই BIMSTEC শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংককে যাবেন। তিনি, সেখানে আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার প্রতিই একরকমের ঝুঁকি।
সেনাবাহিনীতে কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়ার মতোই, তিনি মোফার জিয়া। হাসিনা তার স্বেচ্ছাচারিতাকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য আমাদের মিশনগুলো ব্যবহার করেছিলেন এমন সমস্ত নথি তার কাছে রয়েছে।
হাসিনার শাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য সমস্ত আইডিয়া কুকিংয়ের প্রধান ব্যক্তি ফাইয়াজ। জামাত নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য তিনি সমস্ত (ভুল) তথ্য প্রদানের প্রধান অভিনেতা ছিলেন। তিনি হাসিনার বিচারিক হত্যাকাণ্ড এবং হাসিনার অন্য সব অপশাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য তার অবস্থান ব্যবহার করেছিলেন।
নিঃসন্দেহে তিনি একজন মেধাবী অফিসার। তিনি ইতিপূর্বে উপদেষ্টা তৌহিদের সাথে কাজ করেছেন এবং তার কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। ফাইয়াজের মতো লোকেদের ছেড়ে দেওয়া কঠিন। তাই, পরের সব পররাষ্ট্র সচিব এবং মন্ত্রীরা তাকে হাসিনার শাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য মেমো এবং আইডিয়া লিখতে ব্যবহার করেছিলেন।
ফাইয়াজের নিয়োগ এত দ্রুত কেন? এমনকি MOFA-তে তার সহকর্মীরাও তার চলে যাওয়ার পরই ব্যাংককে আমাদের মিশনে যোগদানের কথা জানতে পেরেছিলেন। আমাদের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব ছাড়া আর কেউই তাঁর চলে যাওয়ার বিষয়ে অবগত ছিলেন না।
৩) রোকিবুল হক, দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালকঃ
ইতালিতে তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদায়ন করেছেন; যেই আদেশ এখনও বলবত রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ শাসনের প্রতি চরম আনুগত্যের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ভারতের স্বার্থকে সবসময়ই প্রাধান্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনাব এ টি এম রোকেবুল হক দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক ছিলেন এবং এমন কোন জিনিস নেই যা তিনি আমাদের বড় প্রতিবেশীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য অনুসরণ করেননি। দক্ষিণ এশিয়ার ডিজি হওয়ার আগে তিনি দিল্লিতে আমাদের দূতাবাসে রাজনৈতিক মন্ত্রী ছিলেন।
সুতরাং, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে তিনি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রদূত হিসাবে রোমে প্রাইজ পোস্টিংয়ে ভূষিত হয়েছেন। রোমে তৎক্ষণাৎ অতীতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন জনাব মনিরুল ইসলাম যিনি আরও তিনটি রাষ্ট্রদূত পদে চাকরি করার পর রোমে আসেন এবং রোম থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
ব্যাংককে ফাইয়াজের মতো, রোকিবকে রোমে উল্কা গতিতে পোস্ট করা হয়েছিল।
তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। কিন্তু তা করতে হবে যথাযথ কৌশলে এবং যথাযথ প্রটোকলের সাথে। তাকে অবিলম্বে ঢাকার সাথে পরামর্শ (Home consultation) করতে বলা উচিত এবং হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গোপন চুক্তি করেছিল সে সম্পর্কে তার কাছে থাকা সমস্ত নথিপত্র হস্তান্তর করতে বলা উচিত।
৪) সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকঃ
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ১৯৮২ ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি চাকুরিতে যোগদানের প্রায় ৪-৫ বছর পর তৎকালীন সময়ে লিয়েনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এ চাকরি নিয়ে বিদেশে চলে যান। তিনি যখন লিয়েনে যান, তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রায় ১৫-১৬ বছর আইওএম-এ চাকরি করেন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় তাঁর চাকরি বিধিসম্মত না হওয়ায় ডেজার্টেশন-এর কারণে সরকার তাঁকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় জেনেভায় আইওএম-এর কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সময়, ২০১৪ সালের গোড়ার দিকে, চাকুরি পুনরায় ফিরে পেতে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ধর্না দিতে শুরু করেন।
সে সময় বর্তমানে কানাডায় নবনিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান এবং তাঁর স্বামী, কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব নজরুল ইসলাম, শহীদুল হকের চাকুরি ফেরত পাওয়ার বিষয়ে মধ্যস্থতা করেন। জানা যায়, নাহিদা সোবহান ও তাঁর স্বামী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জেনেভায় দীর্ঘ ৯ বছর কর্মরত ছিলেন এবং শহীদুল হকের চাকুরি ফেরত পেতে শেখ হাসিনার বিয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ-এর কাছে দালালি করেন। সে সময়ে ড দিপু মনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন। নাহিদা সোবহান-এর স্বামী জনাব নজরুল ইসলাম জেনেভা থেকে ফেরত এসে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড দিপু মনির দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত থাকায় তাঁদের দালালি করা সহজতর হয় এবং তাঁরা সফলকাম হয়।
২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে শহীদুল হক ঢাকায় ফেরত আসনে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিয়াই ও তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ ও ড দিপু মনির সুপারিশে শহিদুল হককে নিয়মবহির্ভূতভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে দেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মাত্র তিন মাসের মধ্যে তাঁকে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে পরিচালক (চলতি); পরিচালক (চলতি) থেকে পরিচালক; পরিচালক থেকে মহাপরিচালক (চলতি); মহাপরিচালক (চলতি) থেকে মহাপরচালক; মহাপরিচালক থেকে অতিরিক্ত সচিব (চলতি); অতিরিক্ত সচিব (চলতি) থেকে অতিরিক্ত সচিব; এবং চূড়ান্তভাবে অতিরিক্ত সচিব থেকে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদ পররাষ্ট্র সচিব পদে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পদোন্নতি দেন।
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোন দেশেই এভাবে অবৈধভাবে সিভিল সার্ভিসে যোগদান ও মাত্র তিনমাসের মধ্যে শীর্ষ পদে সম্পূর্ণ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পদোন্নতির নজির নেই। এর পর তিনি দীর্ঘ সাত বছর পররাষ্ট্র সচিব থাকাকালে শেখ হাসিনা সরকারের গুম-খুন, অবৈধ নির্বাচন ও অন্যান্য অন্যায় ও অপরাধকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বৈধতা গ্রহণের প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এছাড়া তাঁর সাত বছরে পররাষ্ট্র সচিব থাকাকালীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা সেমিনার আয়োজনের নামে বাংলাদেশ সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। আরও উল্লেখ্য যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শুরু থেকে বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার জন্য তিনিই মূলত দায়ী বলে অনেকেই মনে করেন।
রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে সভা সেমিনারে অংশগ্রহণের নামে বিদেশ ভ্রমণ করে সরকারের টাকা খরচ নিত্ত নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শহিদুল হকের ০৭ বছরের পররাষ্ট্র সচিব থাকাকালীন মন্ত্রণালয়ে তাঁর আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়। এই গ্রুপের উল্লেখযোগ্য সদস্য হলেন- বর্তমান অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ, কানাডায় নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ও তাঁর স্বামী কাতারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম, ব্রাজিলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং মাদকাসক্ত ও ইন্দোনেশিয়া সরকার কর্তৃক অবাঞ্ছিত বর্তমান মহাপরিচালক (দক্ষিণ আমেরিকা) কাজী আনারকলি, তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক রাস্ট্রাচার প্রধান আমানুল হক, বর্তমান রাস্ট্রাচার প্রধান নাইম উদ্দিন, ফ্লোরিডায় কন্সাল জেনারেল ও শহিদুল হকের সাবেক কুখ্যাত পরিচালক ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ইকবাল আহমেদ, নিইউইয়র্কের স্থায়ী মিশনে মিনিস্টার পদে কর্মরত শাহানারা মনিকা, ক্যানবেরায় কাউন্সিলর তাহলিল দিলওয়াল মুন, নেপালে রাষ্ট্রদূত সালাহুদ্দিন নোমান চৌধুরী, সদ্য নিযুক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল হক, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার এডমিরাল খুরশিদ আলম এবং ইস্তানবুলে কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ নুর-এ-আলম, ইতালিতে সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সাবেক মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) রকিবুল হক, মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) কাজী রাসেল পারভেজ এবং সদ্য দায়িত্ব হস্তান্তরকারি মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটনে ডেপুটি চিফ অফ মিশন ডিএম সালাহউদ্দিন (শহিদুল হকের সময় ওআইসি-তে কর্মরত) উল্লেখযোগ্য ।
এখানে উল্লেখ্য যে প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকই বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিযুক্ত হতে সহায়তা করেন। শহীদুল হকের ০৭ বছরের সময়কালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তারা নিগৃহীত হয়েছে এবং ভয়ে তাঁরা কথা বলতে পারতেন না। তাঁদের সাথে প্রায়শই দুর্ব্যবহার করা হত। ০৭ বছর দায়িত্ব পালনের শেষের দিকে আইওএম-এর ডেপুটি মহাপরিচালক হিসেবে নির্বাচন করার জন্য পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন প্রদান করেন। এই নির্বাচনে জিততে তিনি সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রের কোটি-কোটি টাকা খরচ করেন। উল্লেখ্য যে, আইওএম এর এই পদ পেতে তিনি ঢাকায় আইওএম অফিসকে বিশেষ সুবিধা দেন। এছাড়া তিনি শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে ববির বিদেশী স্ত্রী পেপিকে দালালি ও সুপারিশ করে আইওএম-এ চাকুরি পাইয়ে দেন। শেখ রেহানা ও তাঁর ছেলে ববির সাথে তাঁর বিশেষ সখ্যতার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সকলেই জানে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচার পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হককে ০৭ বছর দায়ত্ব পালন শেষে শেখ হাসিনা দিল্লীতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং অব্যবহিত আজ পর্যন্ত তিনি ভারতের দালাল ও চর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দিল্লীস্থ নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ভারতের পররাস্ট্রমন্ত্রী জয় শ্ংকর এর সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন।
সম্প্রতি ছাত্র জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তারা শহীদুল হকের অবৈধ ও নজিরবিহীনভাবে চাকুরী ফেরত পাওয়া এবং তিন মাসের মধ্যে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে পররাষ্ট্র সচিব পদে পদোন্নতি এবং সাত বছরের বিভিন্ন অন্যায় অবিচার এবং শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের গুম-খুনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতাসহ উক্ত সময়ে শত শত কোটি টাকা খরচের তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছেন।
শহীদুল হক বর্তমানে ঢাকার বসুন্ধারাতে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করছেন। জানা যায় তিনি গোপনে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
৫) সাঈদা মুনা তাসনিমঃ
লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম। তিনি যুক্তরাজ্য এবং কমনওয়েলথের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত। লন্ডনে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। অভিযোগ রয়েছে যে তিনি লন্ডনে ভিন্ন মতামত পোষণকারীদের দমন করতে আইনগত পন্থা ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে তিনি লন্ডনের হাই কমিশনকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তরিত করেছেন।
সাঈদা মুনা তাসনীম বিকৃত কূটনীতিকের আইকন। একজন মেধাবী অফিসার যিনি তার সমস্ত প্রতিভা ব্যবহার করেছেন একটি অত্যাচারী শাসনের জন্য, দেশের জন্য নয়। তিনি তারেক জিয়াকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে অপদস্থ করার লক্ষ্যে এককভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের জন্য মিলিয়ন ডলার চুষে নিয়েছেন। তাকে যে গোপন তহবিল দেওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে একটি হিসাব নেয়া জরুরী হবে। ভবিষ্যতের সব কূটনীতিকের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করতে হবে যে প্রতিভা যথেষ্ট নয়, সততা এবং দেশপ্রেম তাদের (কূটনীতিকদের) সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
মুনার দৃঢ়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তিনি হাসিনা মন্ত্রিসভার কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীকেও পাত্তা দেননি। হাসিনার সরকার কীভাবে আমাদের দূতাবাসগুলিকে তার নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছিল তার গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত নথি তার কাছে রয়েছে। তার কাছে রেহেনা এবং তার পরিবারের পাশাপাশি বেক্সিমকো, মোরশেদ খাঁ এবং অন্যান্য অনেক বিগ ফিশের সম্পদের তথ্য রয়েছে।
তাকে জরুরী ভিত্তিতে হেড কোয়ার্টারে ফিরে যেতে বলা উচিত।
৬) অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহঃ
আওয়ামী লীগ সরকারের সুযোগসন্ধানী এবং সুবিধাভোগী। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের ঘনিষ্ঠ। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভঙ্গ করে শ্রীলঙ্কা এবং নেদারল্যান্ডসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পদোন্নতি ও পোস্টিং পেয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের পজিশন পেপার তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সরকারি তহবিল দিয়ে ৩ কোটি টাকা মূল্যে আওয়ামী লীগের প্রতীকী ৩টি নৌকা ক্রয় করেছেন। ভারতে পড়াশোনা করেছেন, কথিত র এর এজেন্ট, বর্তমানে নতুন সরকারের সাথে একীভূত হয়ে নিজের রঙ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
মাসুদ বিন মোমেনের নিরাপদ বাজি ছিল রিয়াজ। তিনি প্রতিভাবান কিন্তু আবারও একজন পরিচিত ভারতীয় প্রক্সি। মাসুদ বিন মোমেন তাকে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব করার পরিকল্পনা করছিলেন যদি রিয়াজ ১ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে কুখ্যাত হাসান মাহমুদ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে সক্ষম হতো। যাতে তিনি সফল হয়েছিলেন। রিয়াজের কাছে থাকা বছরের পর বছর ধরে হাসিনার শাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য খসড়া তৈরিতে সহায়তা করার জন্য সমস্ত নথি পুনরুদ্ধার করতে হবে।
৭) মো. রুহুল আলম সিদ্দিকীঃ
বর্তমানে তিনি পাকিস্তানে হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সচিব হিসেবে মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছেন। তাঁর কর্মজীবনে নারীদের প্রতি নির্যাতন ও হয়রানির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার তাকে প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। তিনি অনৈতিক আচরণ এবং চরম দুর্নীতির জন্য পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী এবং সদ্য সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি পর্তুগালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

