দুপুরের গরম, ক্লাস সবে শেষ। চীনের চংছিংয়ের লিয়াংচিয়াং নিউ এরিয়ার লিচিয়া এক্সপেরিমেন্টাল প্রাইমারি স্কুলে তখনও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের প্রজেক্ট নিয়ে বসে আছে। এই স্কুলেই দেশের প্রথম ‘ইয়ুথ এআই একাডেমি’ তৈরি হয় ২০২২ সালে।
কম্পিউটার, ড্রোন, রোবট আর থ্রিডি প্রিন্টারে ভরা ঘরগুলিতে শিশুরা জেনারেটিভ (উৎপাদনশীল) এআই কাজে লাগিয়ে ছোট ছোট প্রকল্প বানায়। যন্ত্রগুলি কোনো কোম্পানির বানানো নয়। শিশুরা এগুলি নিজ হাতে বানায়।
এআই যে এখানে শুধু আলাদা এক ক্লাসের ব্যাপার নয়, সেটা ধরা পড়ে একেবারে সাধারণ ক্লাসেও। গণিতের ক্লাসে কোনো আকৃতির ক্ষেত্রফল বের করার সময় শিক্ষক বোর্ডে না এঁকে এআইয়ের বানানো অ্যানিমেশন খুলে দেন। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই স্কুলকে দেশের এআই শিক্ষার একটা নমুনা হিসাবে সামনে এনেছে।
আরেকটা দৃশ্য আরও সিনেমার মত। উহানের শেনলং প্রাইমারি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিআর (VR) হেডসেট পরে যেন মঙ্গলগ্রহে চলে গেছে। কাজ একটাই—মঙ্গলে আটকে পড়া একটা রোবটকে উদ্ধার করা। শিক্ষার্থীরা এআই-ভিত্তিক ‘অনুসন্ধান বিশ্লেষক’ কাজে লাগিয়ে পরিবেশের তথ্য জোগাড় করছে।
তারপর ঠিক করছে, উদ্ধারযানের বাইরের আবরণ কেমন হবে, চাকা কেমন, কোন যন্ত্রাংশ লাগবে। শেষে সেই যানের একটা অংশ ছাপা হচ্ছে থ্রিডি প্রিন্টারে।
.
চীনের কাছে এআই মানে শুধু কোড লেখা নয়
কয়েক বছর আগেও স্কুলে এআই শেখানোর কথা উঠলে চোখের সামনে ভেসে উঠত প্রোগ্রামিং, রোবট বানানো কিংবা মেশিন লার্নিংয়ের প্রাথমিক ধারণা। চীন এখন এআই শিক্ষাকে তার চেয়ে অনেক বড় পরিসরে দেখছে।
লক্ষ্য শুধু কয়েকজন শিশুকে প্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে তোলা নয়, বরং এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা ছোটবেলা থেকেই এআইয়ের সঙ্গে কাজ করতে জানবে, তার ক্ষমতা বুঝবে এবং তার সীমাবদ্ধতাও চিনবে।
এই লক্ষ্যেই চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৮৪টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলকে এআই শিক্ষার ঘাঁটি হিসাবে বেছে নেয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় দফায় যুক্ত হয় আরও ৩২৫টি স্কুল। দুই দফা মিলিয়ে এআই শিক্ষার এই বিশেষ স্কুলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০৯।
এসব স্কুলকে শুধু রোবট বানানোর স্কুল ভাবলে ভুল হবে। এখানে এআই শেখানোর একটি কাঠামো ধাপে ধাপে তৈরি করা হচ্ছে। ছোটদের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হচ্ছে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরিতে। একটু বড় শিক্ষার্থীরা শিখছে এআই কীভাবে কাজ করে। আর উচ্চতর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে।
অর্থাৎ প্রশ্ন শুধু “এআই মডেল কীভাবে বানাতে হয়”-এ এসে থেমে নেই। শিশুদের শেখানো হচ্ছে এআই কী করতে পারে, তার সীমা র, কোন সমস্যায় কাজে লাগানো যায় এবং তার দেওয়া তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য। এআই যদি কোনো প্রশ্নের আত্মবিশ্বাসী কিন্তু ভুল উত্তর দেয়, সেটি শনাক্ত করার ক্ষমতাও এই শিক্ষার অংশ।
এই পরিবর্তনই আসলে চীনের এআই শিক্ষার মূল বিষয়। এআইকে শুধু শেখার বিষয় হিসাবে না দেখে, শেখার পদ্ধতিরই একটি অংশ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
.
বেইজিংয়ে ছোট শিশুরাও ঢুকছে এআইয়ের জগতে
২০২৫ সালের শরৎ থেকে বেইজিংয়ের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে এআই শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিকল্পনা হলো, বছরে অন্তত আটটি ক্লাসের সমান এআই শিক্ষা। কেউ চাইলে আলাদা বিষয় হিসাবে পড়াবে, কেউ বিজ্ঞান বা তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে মিশিয়ে।
কাগজে আটকে থাকেনি ব্যাপারটা। বেইজিংয়ের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালের শেষে শহরের নানা স্তরের স্কুলে এআই ব্যবহারের হার পৌঁছেছে প্রায় ৮৭.৭ শতাংশে।
সাত-আট বছরের শিশুকে অবশ্যই কোনো বড় ল্যাঙ্গুয়েজ গাণিতিক কাঠামো শেখানো হচ্ছে না। তাকে এআই চেনানো হচ্ছে খেলার ছলে। কেউ দেখছে, মেশিন কীভাবে ছবি চেনে। কেউ ছোট্ট রোবটকে নির্দেশ দিচ্ছে। কেউ গল্প বানাতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে। কেউ আবার প্রশ্ন ছুড়ে যাচাই করছে, মেশিনটা আসলে কতটা ‘বুদ্ধিমান’।
চীনের এই ব্যবস্থার একটা জরুরি দিক হচ্ছে, শিশুকে বলা হচ্ছে না যে, “এআই তোমার সব করে দেবে।” বরং শেখানো হচ্ছে এআই কীভাবে কাজ করে, কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, আর কখন তার উত্তরে সন্দেহ করতে হয়। উল্টা দিকও আছে। ২০২৫ সালের নির্দেশিকায় প্রাথমিকের শিশুদের একা একা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা বন্ধ রাখা হয়েছে। বয়স অনুযায়ী কোথায় থামতে হবে, তা-ও নিয়মে বাঁধা।
.
এআই যদি ভুল উত্তর দেয়
ধরা যাক, এক শিক্ষার্থী এআইকে প্রশ্ন করল। এআই বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিল। কিন্তু উত্তরটা ভুল। আগের যুগে শিক্ষকদের কাজ ছিল সঠিক উত্তরটা ধরিয়ে দেওয়া। এআইয়ের যুগে কাজটা আরও কঠিন। এখন শিক্ষককে বোঝাতে হয়, শিক্ষার্থী নিজেই কীভাবে বুঝবে যে উত্তর ভুল হতে পারে।
এই বদলই চীনের শিক্ষা নীতির কেন্দ্রে। ২০২৫ সালের শিক্ষা ডিজিটালাইজেশন পরিকল্পনায় জোর পড়েছে উঁচু স্তরের চিন্তা, বিচারক্ষমতা আর বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতায়। এআইকে শুধু উত্তর দেওয়ার যন্ত্র হিসাবে দেখা হচ্ছে না, দেখা হচ্ছে শেখানোর পদ্ধতি বদলানোর প্রযুক্তি হিসাবে।
শেনঝেনের এক প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথায় ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়। তার স্কুলে ২০২১ সাল থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থী মাসে অন্তত একটি এআই ক্লাস পায়। তিনি বলছেন, শিশুদের শেখানো হয় কীভাবে বড় ভাষা মডেল দিয়ে সমস্যা মেটাতে হয়। কিন্তু তার চেয়ে বেশি শেখানো হয় সমালোচকের চোখে ভাবতে—এআইয়ের উত্তর আদৌ ঠিক কি না, একাধিক জায়গায় মিলিয়ে যাচাই করে দেখা।
.
শিক্ষক হারিয়ে যাচ্ছেন না, শিক্ষকের কাজ বদলাচ্ছে
এআই শিক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয়গুলির একটি—রোবট কি একদিন শিক্ষকদের জায়গা নিয়ে নেবে? চীনের এখনকার পরীক্ষা অন্তত অন্য চিত্র দেখাচ্ছে।
কোনো শিক্ষক চাইলে নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য এআই সহকারী নিতে পারেন। কোনো শিক্ষার্থী একই জিনিস বুঝতে না পারলে বাড়তি অনুশীলন পায়। শিক্ষক সামনে দাঁড়িয়ে পড়াচ্ছেন, আর এআই পেছনে বসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদা সমস্যা সামলাচ্ছে। এখানে এআই শিক্ষককে সরাচ্ছে না, শিক্ষকের হয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর দিকে বাড়তি নজর রাখছে।
৪০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের শেখার ধরন একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রতিদিন আলাদা করে মেপে দেখা কঠিন। এআই সেই বিপুল তথ্য ঘেঁটে দেখিয়ে দিতে পারে কে কোথায় আটকে আছে, কে দ্রুত আগাচ্ছে, কে একই ভুল বারবার করছে। সেই তথ্য দেখে শিক্ষার্থীকে এরপর কীভাবে শেখানো হবে—সিদ্ধান্ত এখনও মানুষেরই।
ইউনেস্কোর হিসাব, ২০৩০ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হবে। সেই ফাঁক পূরণে এআই-সহকারী কতটা কাজে দেয়, চীন এখন বড় পরিসরে তা-ই দেখছে।
.
হংকৌয়ের এক ছোট স্কুলে বড় পরীক্ষা
হংকৌয়ের কুয়িয়াং ফোর্থ প্রাইমারি স্কুল বানিয়েছিল ‘ইনোভেটিভ থিংকিং ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট’। প্রথম দফায় স্কুল তৈরি করে আটটি এআই এজেন্ট। এর দুটি খুলে দেওয়া হয় পুরো জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য। এখানে একটা দিক ভাবার মত। এআই ওপর থেকে চাপানো একক কোনো সফটওয়্যার হয়ে আসছে না। স্কুল নিজের প্রয়োজনমত ছোট ছোট সহকারী বানিয়ে নিচ্ছে।
.
বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বড় পরিবর্তন
স্কুলের পর একই ভাবনা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়েও। এখানে এআই শুধু কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। চিকিৎসা, প্রকৌশল, অর্থনীতি, মানবিক বিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান—নানা ক্ষেত্রেই এআইকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেদিকে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।
২০২৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এআই-ভিত্তিক শিক্ষার বাস্তব উদাহরণ জমা দিতে বলে। এর মধ্যে ছিল নিজস্ব ডেটাভাণ্ডার, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানভাণ্ডার, ব্যক্তিগত শেখার পথ, এআই শিক্ষা সহকারী, ভার্চুয়াল পরীক্ষাগার আর বুদ্ধিমান মূল্যায়ন।
চীনের জন্য এর মানে পরিষ্কার। আগামী দিনের ডাক্তারকে হয়ত এআই মডেল বানাতে হবে না, কিন্তু এআই যে রোগ নির্ণয়ের পরামর্শ দিচ্ছে, তা বুঝতে হবে। স্থপতিকে হয়ত বড় ভাষা মডেল গড়তে হবে না, কিন্তু এআইয়ের বানানো নকশার ভুল ধরতে হবে।
.
তখন পরীক্ষার খাতাও বদলাতে হবে
এআইয়ের যুগে স্কুলের আরেক বড় মাথাব্যথা পরীক্ষা। কোনো শিক্ষার্থী বাড়িতে বসে এআই দিয়ে সুন্দর একটা রচনা লিখিয়ে নিলে শিক্ষক বুঝবেন কীভাবে যে প্রবন্ধটি তার নিজের চিন্তা থেকে তৈরি লেখা? এই প্রশ্নের পুরো উত্তর এখনও মেলেনি। তবু চীন পরীক্ষার ধরনও পাল্টানোর চেষ্টায় নেমেছে।
এআই দিয়ে প্রশ্ন তৈরি, শিক্ষার্থীর উত্তর বিশ্লেষণ, শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ আর আলাদা করে মূল্যায়ন—এসব পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে।
.
পাঁচ বছরে ১০ হাজার শিক্ষার্থী
শেনঝেন ক্লাউড স্কুলের মডেল আরেকটা ধারণা সামনে আনে। এখানে শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক নন, চার ধরনের ভূমিকা একসঙ্গে কাজ করে: প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, মাঠপর্যায়ের শিক্ষক আর এআই শিক্ষক সহকারী।
গত পাঁচ বছরে এই মডেল যুক্ত করেছে ২৭টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, সেবা দিয়েছে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আর ৭৫০ শিক্ষককে। ২০২৬ সালে হাংঝৌতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ডিজিটাল শিক্ষা সম্মেলনে এটিকে এআই-ভিত্তিক শিক্ষার উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হয়।
ভবিষ্যতের শ্রেণিকক্ষের একটা ছবি এখানেই ধরা পড়ে। শিক্ষক ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে, পাশে এআই সহকারী, কোনো শিক্ষার্থী আটকে গেলে সে আলাদা সাহায্য পাচ্ছে, আর শিক্ষক দেখতে পাচ্ছেন গোটা ক্লাসের শেখার গতিপথ।
.
কিন্তু বিপদও আছে
এখানে থেমে গেলে চীনের ব্যবস্থাকে বড় বেশি আশাবাদী মনে হবে। এআই ভুল করে। শিক্ষার্থী তার ওপর বেশি নির্ভর করে ফেলতে পারে। নিজে না ভেবে উত্তর কপি করার অভ্যাসও গড়ে উঠতে পারে। ঝুঁকিগুলি নিছক তত্ত্ব নয়। হংকৌয়ে এজেন্ট চালুর শুরুতেই কিছু শিক্ষক দেখলেন, দু-একজন শিক্ষার্থী এজেন্টের কাছ থেকে ঝগড়া করা বা অন্যকে খোঁচা দেওয়া শিখে নিচ্ছে। যন্ত্র যা শেখায়, শিশু তা-ই তুলে নেয়—ভালটাও, মন্দটাও।
শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কে তা ব্যবহার করছে—এটাও বড় প্রশ্ন। আর আছে বৈষম্য। ভাল স্কুল আর দুর্বল স্কুলের প্রযুক্তিগত দূরত্ব বাড়লে এআই শিক্ষার সুবিধা সবার কাছে সমান পৌঁছাবে না।
.
২০৩০ সালের লক্ষ্য
চীন ঠিক করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এআইকে আরও ছড়িয়ে দেবে। ২০২৪ আর ২০২৫ সালে গড়া এআই শিক্ষা ঘাঁটিগুলি সেই বড় পরিকল্পনার পরীক্ষাগার। তবে ২০৩০ সালের গল্প সম্ভবত শুধু এআইয়ের ক্লাস নিয়ে হবে না। হবে এমন এক শ্রেণিকক্ষ নিয়ে, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার পথ কিছুটা আলাদা।
একজন দ্রুত গণিত শিখছে, আরেকজন একই জায়গায় বারবার আটকে যাচ্ছে, তৃতীয়জন লিখতে ভালবাসে অথচ বিজ্ঞান বোঝে না, চতুর্থজন কোনো একটা বিষয়ে অসম্ভব কৌতূহলী। এআই এদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা অনুশীলন, আলাদা ব্যাখ্যা, আলাদা প্রশ্ন বানিয়ে দিতে পারে। শিক্ষক তখন শুধু “পাঠ শেষ হল কি না” দেখবেন না। দেখবেন কে কীভাবে শিখছে।
.
ভবিষ্যতের শিক্ষক হয়ত একজন মানুষই থাকবেন
চীনের শিক্ষায় এআইয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটা শেষমেশ রোবট নয়। একটা ধারণার বদল।
শিক্ষা এতদিন চলেছে অনেকটা কারখানার ধাঁচে। একই বয়সের অনেক শিশু এক ক্লাসে বসবে, এক বই পড়বে, এক সময়ে এক পরীক্ষা দেবে। এআই সেই ছাঁচটাকেই আস্তে আস্তে প্রশ্ন করছে। হয়ত ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক ৪০ জনকে একইভাবে শেখাবেন না। ৪০ জনকে একসঙ্গে শেখাবেন ঠিকই, কিন্তু এআইয়ের সাহায্যে প্রত্যেকের জন্য আলাদা পথ তৈরি করে দেবেন।